Published : 12 Aug 2026, 03:16 PM
দেশে ১৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের সংখ্যা ৫ কোটি ৮১ লক্ষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ। এই বিপুল সংখ্যক তরুণদের সঠিক পথে চালিত করতে, তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা, দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ডিজিটাল সুবিধা প্রদানের ওপর জোর দিয়েছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই বার্তা দেওয়া হয়। সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ ও দ্য ন্যাশনাল ইয়ুথ নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এই আয়োজন করে। সকালে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণদের কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দিকে মনোযোগ দেওয়া যথেষ্ট নয়; তাদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা কর্মজীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। দক্ষতা অর্জনের পর তাদের জন্য উপযুক্ত উপকরণ ও সহায়তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এবারের বাজেটে স্টার্টআপ ফান্ডে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার সৃজনশীল অর্থনীতির (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) দিকে মনোযোগ দিতে চায়।
এই অর্থনীতিতে তরুণরাই প্রধান অংশীদার হতে পারে এবং তাদের সম্ভাবনার ওপর রাষ্ট্রের দায়িত্ব বর্তায়। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের রাজনীতি ও মানবাধিকারবিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি জাওয়াদ আজাওয়ি বলেন, তরুণদের কেবল উন্নয়নের সুবিধাভোগী হিসেবে দেখা উচিত নয়; তাদের উদ্ভাবক, নেতা, অংশীদার এবং পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (নির্ভরশীল জনসংখ্যার তুলনায় কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি থাকার বিশেষ অর্থনৈতিক সুবিধা) কাজে লাগানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুযোগ আপনা-আপনি আসে না। তরুণদের, বিশেষত তরুণ নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণদের এখনো নানা বাধা অতিক্রম করতে হয়। তাদের অন্তর্ভুক্তিকরণ, শিক্ষা, কাজ করার সুযোগ, অংশীদারিত্ব, নেতৃত্ব এবং জীবন ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) উপাচার্য অধ্যাপক সামসাদ মর্তূজা বলেন, আজকের তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তি ও কল্পনার যে শক্তি বিদ্যমান, তা অপরিসীম। কিন্তু এই শক্তির সম্পূর্ণ দায়িত্ব কেবল তাদের ওপর চাপানো যায় না।
সরকার, শিক্ষা ব্যবস্থা, কূটনীতি, উন্নয়ন সংস্থা এবং সুশীল সমাজের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব হলো তরুণদের মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি তাদের ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতাও সুরক্ষিত করতে হবে। সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত বলেন, শিশুরা ভবিষ্যৎ, কিন্তু তরুণরাই বর্তমান। তারা তরুণদের নিষ্ক্রিয় সেবাগ্রহীতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তারা তরুণদের মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি করতে সচেষ্ট। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের সোচ্চার প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ফারহানা আক্তার এবং তরুণ প্রতিনিধি লিলি প্রু মারমা। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় এবং উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা নারী নেতৃত্বাধীন নয়টি সংগঠনের স্টল পরিদর্শন করেন।।